২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২(বিবিনিউজ ):পঞ্চাশ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে সাভারে এক প্রবাসী নারীর জমির বাউন্ডারি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। উপজেলার বিরুলিয়া ইউনিয়নের বিরুলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওই দম্পতি পঞ্চাশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবির বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
এলাকাবাসী জানায়, রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা ফিলিস্তিনি নাগরিক সামির এম এল হামিদ ও তার স্ত্রী তাসলিমা আহমেদ ২০২১ সালে স্থানীয় সাইদুর রহমান গং, কামরুজ্জামান ও সদাগর নামের তিন ব্যক্তির কাছ থেকে ৮৪ লক্ষ টাকা দিয়ে বিরুলিয়া গ্রামে ২৮ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। সেই জমিতে ওই দম্পতি হাসপাতাল ও এতিমখানা করার জন্য জমিতে বাউন্ডারি করার উদ্যোগ নেন। এসময় নির্মাণ শ্রমিকরা জমিতে বাউন্ডারির নির্মাণ কাজ করতে গেলে স্থানীয় মৃত ব্যক্তি সুরুজ মিয়ার ওয়ারিশগণ জমি তাদের এই মর্মে দাবি করে কাজ বন্ধ করে দিয়ে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওই দম্পতির কাছে। দাবিকৃত চাঁদার পঞ্চাশ লক্ষ টাকা দেওয়া হলে নির্মাণ কাজ করতে দেওয়া হবে বলেও জানান তারা। এসময় সন্ত্রাসীরা পঞ্চাশ লক্ষ টাকা চাঁদা না পেয়ে ওই জমিতে কাজ করা নির্মাণ শ্রমিকদের মারধর করে তাদের কাছে থাকা টাকা পয়সাসহ কয়েক লক্ষ টাকার নির্মাণ সামগ্রী লুটপাট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন ওই দম্পতি। পরে ওই দম্পতি তাৎক্ষণিক স্থানীয় সন্ত্রাসী নুরুল ইসলামকে প্রধান আসামী করে ১২ জনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে চাঁদাবাজির মামলায় ভুল বসত স্থানীয় মৃত ব্যক্তি আমিনুল ইসলামের নাম দেওয়া হলে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা মৃত ব্যক্তি আমিনুল ইসলামের নাম ভাঙ্গিয়ে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তুলে সেখানে একটি মানববন্ধন করেছে। তবে ওই দম্পতি অভিযোগ করে বলেন তারা যদি জানতেন আমিনুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি মারা গেছেন তাহলে মামলায় তার নাম দিতেন না তারা। তবে ওই দম্পতির অভিযোগ তারা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন আমিনুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে মারা গেছেন। কিন্তু মৃত ব্যক্তি আমিনুল ইসলাম কিভাবে ১০-১১-২১ সালে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে সাইন করে সাভার উপজেলা (ভূমি) অফিসে একটি মিস কেস করেন। সন্ত্রাসী গ্রুপটি মৃত ব্যক্তির সাইন নকল করে কিভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিস কেস করলো বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের কাছে তারা আহবান জানিয়েছেন। এদিকে সন্ত্রাসীদের ভয়ে ওই ফিলিস্তিনি নাগরিক ও তার স্ত্রী জমিতে যেতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোমেনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
